শিশুদের নাভি শুকানোর উপায়

0


সূচিপত্র












শিশুদের নাভি শুকানোর উপায়  



নাভি হচ্ছে শিশুদের শরীরের  গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। বাচ্চাদের জন্মের দুই থেকে তিন সপ্তাহ পরে অথবা এর মধ্যে যেকোনো সময় নাভি শুকিয়ে যায় এবং নাভি খসে পড়ে বা ঝড়ে পড়ে।


বিভিন্ন কারণে কিছু কিছু বাচ্চার নাভি দেরিতে শুকাতে পারে, আবার অনেক বাচ্চার নাভিতে ঘা দিতে পারে।


বাচ্চাদের নাভি সুখিয়ে যাবার পরে পড়ে যায়, অনেক বাচ্চার নাভি শুকাতে দেরি হয়, নাভি যাতে তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায় , সেজন্য বাজারে কিছু পাউডার পাওয়া যাই, এই পাউডার নিয়ে আজকে আপনাদের সাথে সামান্য কিছু আলোচনা করবো। এই আলোচনা থেকে আপনারা অনেক কিছু জানতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।



শিশুর নাভি শুকায় না, সেটার কারণ কি ?


অনেক কারণ রয়েছে যে কারণ গুলোর জন্য বাচ্চার নাভি শুকাতে দেরি হতে পারে। শিশুর শরীরে যদি অন্য রোগ হয়ে থাকে তাহলেও নাভি শুকাতে দেরি হতে পারে। অনেক সময় আমাদের নিজেদের ভুলের কারণেই বাচ্চার নাভি শুকাতে দেরি হতে পারে। মার্কেটে নাভি শুকানোর অনেক পাউডার পাওয়া যায়, সেগুলো জানার আগে প্রথমে জানবো কি কারণে বাচ্চার নাভি শুকায় না ।

  • শিশু জন্মগ্রহণ করার পরে আপনি যদি সব সময় তার নাভি ঢেকে রাখেন তাহলে শিশুর নাভি শুকাতে দেরি হতে পারে।
  • শিশুর জন্মগ্রহণ করার পরে তার নখগুলো আস্তে আস্তে বড় হয় ,আপনি যদি সেই নখ না কেটে দেন তাহলেও নাভি শুকাতে দেরি হতে পারে।
  • ডায়াপার পরানোর সময় যদি নাভির উপরে পরানো হয়, তাহলে নাভি শুকাতে দেরি হতে পারে
  • যদি বাচ্চার নাভি পরিষ্কার করা না হয়, তাহলে নাভি শুকাতে দেরি হতে পারে।
  • আপনি যদি বাচ্চাকে সকালের রোদ্রে নিয়ে না যান, তাহলে ও নাভি শুকাতে দেরি হতে পারে।
  • আপনি যদি বাচ্চার নাভি ঢেকে রাখেন তাহলে সেখানে আলো পাবে না এবং বাতাস ঢুকবে না, সেজন্য নাভি শুকাতে দেরি হতে পারে।
  • আপনি যদি বাচ্চার নাভিতে সব সময় হাত দেন, তাহলে নাভি শুকাতে দেরি হতে পারে
  • হাত ভালোভাবে পরিষ্কার না করে বাচ্চাকে ধরলে।
  • বাচ্চা জন্মের  সময় কোন ক্রটি থাকলে,। নাভী শুকাতে দেরি হতে পারে।

কিছু পাউডার যেগুলো দিয়ে বাচ্চার নাভি শুকনো যায়


আমরা যদি শিশুর নাভির খুব ভালো ভাবে যত্ন নি,তাহলে বাচ্চার নাভি অটোমেটিক শুকিয়ে যায়,  বাচ্চার অন্যান্য রোগের জন্য নাভি শুকায় না, যদি আপনার মনে হয় বাচ্চার নাভি শুকাতে দেরি হচ্ছে
তাহলে অবশ্যই একজন শিশু ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। বাজারে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির পাউডার পাওয়া যায় যেগুলো দিয়ে নাভি শুকানো যায়, এদের মধ্যে একটি পাউডারের নাম হলো নেবানল ।


শিশুদের নাভি শুকানোর কিছু সহজ উপায়

আমি এখন যে বিষয়গুলো বলবো আপনারা অনেকেই জানেন এই উপায় গুলো সম্বন্ধে । এমন কিছু নিয়ম আছে  যে নিয়মগুলো মানার মাধ্যমে নাভি শুকিয়ে যায়। আমাদের দেশে শীতকালে যেসব বাচ্চা জন্মগ্রহণ করে, তাদের নাভির ঘা শুকাতে কিছুদিন দেরি হতে পারে।

এখন আমরা কিছু নিয়ম জানব যে নিয়ম গুলো মানলে নাভির ঘা খুব তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যাই
  • শিশুর নাভি সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে
  • খেয়াল রাখবেন যাতে শিশুদের নাভি ঢেকে না থাকে সব সময় খোলা রাখবেন
  • আপনি যখন নাভিতে হাত দিবেন হাত পরিষ্কার করে ধুয়ে নেবেন
  • বাচ্চার নাভিতে যাতে আলো বাতাস লাগে সেদিকে খেয়াল রাখবেন
  • শিশুকে প্রতিদিন সকালের রোদে নিয়ে 20 মিনিট বসে থাকবেন, সকালের প্রথম যে রোদ ওঠে সেই রোদে বসবেন, আবার অনেক রোদে বসা যাবে না।
  • বাচ্চার নাভি না পড়া পর্যন্ত গোসল করানো যাবে না বাচ্চাকে
  • বাচ্চা জন্মের এক সপ্তাহ পর থেকে নরম কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করে দেবেন সমস্ত শরীর, খেয়াল রাখবেন বাচ্চা নাভি ভেজানো যাবে না
  • আপনি যখন ডায়াপার পড়াবেন তখন সব সময় নাভির নিচে পড়াবেন।


শিশুদের নাভিতে যদি ইনফেকশন হয়ে যায় তাহলে করণীয়


শিশুর নাভিতে যদি ইনফেকশন হয় তাহলে এটা ওই বাচ্চার জন্য অনেক কষ্টকর হয়। আপনাকে অবশ্যই আপনার শিশুর নাভির খুব ভালোভাবে যত্ন নিতে হবে। অনেকে বাসায় বিভিন্ন ধরনের ঘরোয়া পদ্ধতি ব্যবহার করে নাভিতে ইনফেকশন না হওয়ার পরে এগুলো করা মোটেও ঠিক নয়। এগুলো করলে আপনার শিশুকে আরও বিপদের মুখে ফেলে দিতে পারে। 
  • হেক্সিসল ব্যবহার করা যাবে না
  • যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে
  • ডাক্তার যে ট্রিটমেন্ট দিবে সে অনুযায়ী এন্টিবায়োটিক এবং পাউডার ব্যবহার করতে হবে
  • নাভিতে যদি ঘা হয়ে যায় তাহলে ঘরোয়া কোন ধরনের ওষুধ ব্যবহার করবেন না


কেন রক্ত বের হয়, শিশুদের নাভি থেকে?

শিশুদের নাভি থেকে দুটি কারণে রক্ত বের হতে পারে,,,

2 টি কারণ নিম্নে উল্লেখ করা হলো:

প্রথম: শিশুদের নাভিতে যদি ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ ঘটে
তাহলে শিশুদের নাভি থেকে রক্ত বের হতে পারে।

দ্বিতীয় : শিশুদের নাভি থেকে রক্ত বের হতে পারে যদি পোর্টাল হাইপ্রেশন হয়। 


বিভিন্ন ধরনের কুসংস্কার নাভি সম্পর্কে


শিশুদের নাভি সম্পর্কে আমাদের দেশে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ধরনের কুসংস্কার রয়েছে। যেগুলো বিশ্বাস করা আমাদের জন্য মোটেই উচিত নয়। এসব কুসংস্কার যদি আপনি মানেন তাহলে শিশুর মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এসব কুসংস্কার সম্পর্কে আমাদের সচেতন থাকতে হবে। আপনাকে ডাক্তার যে পরামর্শ দিবে সেগুলো ছাড়া অন্য কোন কিছুই নাভিতে ব্যবহার করবেন না। আসুন এখন আমরা জানবো কিছু কুসংস্কার নাভি নিয়ে,,,,,

  • অনেকে বলে নাভিতে রসুন পড়া দিলে নাভি শুকিয়ে যায়, এটা কুসংস্কার ছাড়া আর কিছুই নয় এটা কখনো করবেন না।
  • নাভিতে গরম তেল ব্যাবহার করা।
  • অনেকে নাভিতে সিঁদুর ব্যাবহার করে, এটাও ঠিক নয়।
  • মায়ের বুকের দুধ বের করে সেটা শিশুদের নাভিতে দেয়া, এটাও করা যাবে না।
  • বিভিন্ন অঞ্চলে অনেক রকমের পাতার রস বের করে সেটা নাভিতে দিয়ে দেই। এটা করলে উপকারের পরিবর্তে আপনার শিশুর ক্ষতিও হতে পারে।
  • মানুষ কত বড় মূর্খ হলে নাভিতে গোবর ব্যাবহার করতে পারে, বেশ কিছুদিন আগে আমার সামনেই একজন মা তার শিশুকে নাভিতে গোবর লাগিয়ে , সেটা ইনফেকশন হবার পরে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিল। আপনারা এসব কুসংস্কার কখনো মানবেন না।

বাচ্চাদের নাভিতে হার্নিয়া হয়, এটার কারণ

নাভির কর্ডটি একটি ছোট মুখের মাধ্যমে শিশুর পেটের পেশীর মধ্যে দিয়ে যায়। এই মুখটি জন্মের পর বন্ধ হয়ে যায়। তাই, যখন পেটের দেয়ালগুলি পেটের পেশীগুলির মধ্যে একত্রিত হতে ব্যর্থ হয় । শিশু যখন জন্মগ্রহণ করবে তখন অথবা পরে হার্নিয়া হতে পারে।

শিশুদের নাভিতে যে হার্নিয়া হয়, সেটার লক্ষণ


হার্নিয়া হবার সময় লক্ষণ নিম্নে দেয়া হলঃ

শিশুদের জন্য খুব কষ্টকর একটি অবস্থা হলো হার্নিয়া।

শিশুদের  হার্নিয়া হবার লক্ষণ এর মধ্যে রয়েছে-

• শিশুদের নাভিতে হার্নিয়া হলে 
 বেশি সময় ওই বাচ্চা কান্না কাটি করবে

  • প্রচুর পরিমাণে কান্না করবে এই কান্না করার জন্য ওই শিশুর মুখ ফ্যাকাসে হয়ে যেতে পারে। এই সময় বসে না থেকে অবশ্যই শিশু ডাক্তারের পরামর্শ নিন 

  • ওই শিশুটি যখন কান্না করবে বা কাসি দিবে অথবা মলত্যাগ করতে যাই, পেটের ওপরে অনেক চাপ সৃষ্টি হতে পারে, এটার জন্য ওই শিশুর নাভি বড়ো হয়ে যায়।

★শিশুদের নাভিতে হার্নিয়া হলে সেটা বাথাহিন হয়

যখন অনেক বয়স হয় হার্নিয়া পেটের মধ্যে অস্বস্তি  করতে পারে।

শিশুদের নাভির সংক্রমণ থেকে বাঁচতে হলে মায়েদের জন্য করণীয় কি


গর্ভাবস্থায় শিশু যখন পেটে থাকে ওই সময় মাকে কিছু টিকা দেয়ার মাধ্যমে বাচ্চাকে বিভিন্ন রোগ থেকে ভালো রাখা যায়। বাচ্চা যখন জন্ম নিবে তার যাতে কোনো ইনফেকশন না হয়, সে জন্য বাচ্চা মায়ের পেটে আসার আগে অথবা মায়ের পেটে থাকা অবস্থায় ধুনুষ্টনকার এর টিকা নিতে হবে, এবং হেপাটাইটিস বি ভাইরাস এর টিকা অবশ্যই নিতে হবে । এ ছাড়াও ফ্লু এর টিকা দিয়ে হবে ওই মাকে।

ডাক্তারের পরামর্শ


সাধারণত শিশু যখন গ্রহণ করে তখন থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে যে কোনো সময় নাভি শুকিয়ে পড়ে যায়। কিন্তু যদি নাভি না পড়ে অথবা নাভিতে ঘা হয় অথবা ইনফেকশন হয়ে নাভি থেকে পুজ অথবা রক্ত বের হয়, আপনাকে অবশ্যই শিশু ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে, । কেননা নাভির যে ইনফেকশন হয়েছে এটা শরীরের বিভিন্ন জায়গায় খুব দ্রুত ছড়িয়ে যাবে ।  শিশু চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন খুব দ্রুত।







একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)