আইন কি | আইন কাকে বলে | আইনের সঠিক সংগা কি | বাংলাদেশের আইন । আইন ও আইন ব্যবস্থা

0

প্রথম অধ্যায়ের সূচি পত্র :


আইন কি ?  আইনের সঠিক সংজ্ঞা কি ?

আইন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা সমাজের প্রতিটি সদস্যের জীবনের সাথে সম্পর্কিত। এটি নিয়ম, নীতি এবং বিধিবদ্ধতার সেট বা কালেকশন যা একটি রাষ্ট্র বা সমাজ তৈরি করে এবং পরিচালনা করে। আইনের মাধ্যমে মানুষ তাঁদের আচরণ এবং সম্পর্কের নির্দেশাবলী পেয়ে থাকে, এটি বাধ্যতামূলক বা বহুমুখী সামাজিক স্বাধীনতার নির্ধারণ করে এবং সাধারণ ন্যায় ও ন্যায়পরায়কে সংরক্ষণ করে।


আইন সম্পর্কে একটি প্রাথমিক সমস্যা হল এর সঠিক সংজ্ঞা সম্পর্কে বিভিন্ন মতামত থাকা। কারও মতে আইন হলো প্রাকৃতিক আইন, কারও মতে হলো নৈতিক আইন, আর অন্যের মতে হলো বাধ্যবাধকতার আইন বা আদালতের আইন। আসলেই আইন অনেক পরিচিত এবং প্রত্যাশিত বিষয়। আইন আমাদের জীবনের প্রায় সব সময়ই উপস্থিত থাকে, আমরা যখন সড়কে চলি, কোনো কাজ শুরু করি বা সামাজিক পদক্ষেপ নিয়ে যাই তখন সেই সময়ই আমরা আইনের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে যাই। আইন আমাদের জীবনের প্রতিটি দিকে প্রভাব বিস্তার করে এবং এটি নির্দেশ করে যে কোনও পদক্ষেপ কীভাবে নেওয়া উচিত এবং কীভাবে নেওয়া যাবে না।


আইন একটি কার্যকরী এবং বাস্তবসম্মত সংজ্ঞা হল, এটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রণীত এবং প্রচলিত এমন নিয়মকানুন যা একটি রাষ্ট্র বা সমাজ নিজেদের উপর বাধ্যতামূলক বা অবশ্যই পালন করে। আইনের মাধ্যমে একটি রাষ্ট্র তাঁর নাগরিকদের মধ্যে বিতর্ক বা বিপজ্জনক সমস্যার সমাধানের জন্য সরবরাহ করে। আইন আদালত কর্তৃক বলবৎযোগ্য কিছু নিয়মকানুনের সমষ্টি হিসাবেও উল্লেখ করা হয়। একটি দেশের আইন ব্যবস্থা  ব্যাক্তিদের   মধ্যে বিতর্কের জন্য একটি সহজ উপায় সরবরাহ করে। এটি মানুষকে ন্যায়পরায়ের ব্যবস্থা ও নিয়মাবলীর সাথে পরিচিত করে এবং আইনপরায়কে সংরক্ষণ করে।


আমরা সমাজে একটি নিশ্চিত প্রণালীর মাধ্যমে জীবন প্রতিষ্ঠা করি যা প্রত্যেকটি সদস্যের অধিকার ও দায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইন এই প্রণালীর ভিত্তি হয় এবং সমাজের ন্যায়পরায় এবং নীতিমালা প্রতিষ্ঠিত করে। আইন একটি প্রতিষ্ঠিত নিয়ম সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ন্যায়ের বিপরীতে কাজ করে এবং সাধারণ মানুষকে সামাজিক আদালতে সম্প্রদায় ও ব্যক্তিগত মামলায় তাঁর অধিকার ও দায়িত্ব নিশ্চিত করে।


সারাদেশের আইনগত ব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করা যায় এর কারণে সমাজের সকল বিভাগের মানুষ সমান অধিকার ও সামাজিক সুরক্ষা পেয়ে থাকে। সুতরাং, একটি বিশ্লেষণ করা যায় যে আইন সমাজের প্রতিটি সদস্যের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং সুস্থ একটি সমাজ গঠন করার জন্য দরকারী নিয়মগুলি স্থাপন করে। আমরা আইনের মাধ্যমে ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা করি, আমাদের অধিকার ও দায়িত্বগুলি রক্ষা করি, ধার্মিক ও নৈতিক মানগুলি প্রতিষ্ঠিত রাখি, এবং সামাজিক প্রগতি ও সুরক্ষা সাধারণ মানুষের জন্য নিশ্চিত করি|


সুতরাং, আইন একটি সাধারণ মানুষের প্রতিষ্ঠিত নীতিমালা বা নিয়মকানুন। আমরা সবাইকে আইনের মাধ্যমে সমান অধিকার ও সামাজিক ন্যায় নিশ্চিত করতে হবে এবং আইনবিদদের ভাবনার উপর ভিত্তি করে আইন বিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ে বিশ্লেষণ করতে হবে। 


আইন ও রাজনীতি (Law and Politics):


 একদিক দিয়ে বিবেচনা করলে আইন এবং রাজনীতি এই দু'টি ধারণা বলতে গেলে 'মুরগী আগে না ডিম আগে' বিতর্কে জড়িত। কারণ প্রশ্ন হলো আইন ও রাজনীতি-এ দু'টির মাঝে কোটি সমাজে আগে আসে। এক অর্থে রাজনীতিই আইনের জন্ম দেয়। কারণ, ব্যক্তি এবং ব্যক্তি কিংবা ব্যক্তি ও রাষ্ট্রের মধ্যকার বিভিন্ন সামাজিক দাবীগুলো সামাজিক মিথষ্ক্রিয়ার কারণেই জন্ম নেয়। পরবর্তীতে এই সব সামাজিক দাবীকে আইন হিসেবে স্বীকৃতি দেবার জন্য সমাজে আন্দোলনের জন্ম হয়। এবং এই আন্দোলই হলো রাজনীতি এবং এই রাজনীতি সরকারকে বাধ্য করে সামাজিক দাবীগুলোকে স্বীকৃতি দিয়ে আইন প্রণয়ন করতে। অন্যভাবে বলা যায়, রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণীত আইন এবং উহার দুর্বলতা বা সীমাবদ্ধতা পরবর্তীতে আন্দোলনের জন্ম দেয়। কারণ, উক্ত আইনের যুগোপযোগী যথাযথ পরিবর্তন প্রয়োজন । এই আন্দোলন রাজনীতি ব্যতীত কিছুই নয়।

অন্য একটি মতবাদের বিষয়বস্তু হলো যে, রাজনীতি আইন থেকে শুধু আলাদাই নয় বরং অনেকটা অধীনস্ত । কারণ আইনের উদ্দেশ্য হলো ন্যায়বিচার কিন্তু রাজনীতির উদ্দেশ্য বহুমুখী এবং প্রতিযোগিতামূলক ।

আইন ও রাজনীতিকে অন্যভাবেও তুলনা করা যায়। রাজনৈতিক নিয়মকানুন যা আদালতে বলবৎযোগ্য নয় তা বৃটেনের অলিখিত সংবিধানের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। আইনকে আদালত কর্তৃক বলবৎযোগ্য নিয়মাবলী হিসেবে সংজ্ঞায়িত করলে তা আইনগত বিধিবিধান এবং রাজনৈতিক বিধিবিধানের মাঝে পার্থক্য নিরূপনের একটি উৎকৃষ্ট উপায় হিসেবে গণ্য হবে । 

এই দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায় যে, আইন ও রাজনীতি উভয়ই রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থা পরিচালনার সম্মিলিত নিয়মকানুন । আইন ও রাজনীতি রাষ্ট্র ব্যবস্থার সম্মিলিত রূপ যার মধ্যে আইন একটি বিশেষ অবস্থানে থাকে। অবশ্য স্মরণে রাখতে হবে যে, আইন ও রাজনীতির মাঝে পার্থক্য নিরূপন করার চেষ্টা করা হলেও উক্ত পার্থক্য মৌলিক কিংবা গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয় কারণ বিষয় দু'টি একটি মুদ্রার এপিঠ ও ওপিঠের মত । 



আইন ও অধিকার (Law and Rights) :

অধিকার হল সমাজে কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের দাবীকৃত এমন কতগুলো স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবী যার নৈতিক কিংবা আইনগত ভিত্তি আছে এবং যা মানুষের বিকাশের জন্য প্রয়োজন । এক অর্থে অধিকার আইনের সৃষ্ট নয়; ব্যক্তি এবং ব্যক্তি কিংবা ব্যক্তি ও সমাজের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার অনিবার্য পরিণতি হিসেবে অধিকার জন্ম লাভ করে। 

অধিকারকে প্রথমতঃ দু'ভাগে ভাগ করা যায়ঃ নৈতিক অধিকার এবং আইনগত অধিকার । নৈতিক অধিকার হলো সেই সব অধিকার যা প্রাকৃতিক আইনের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে এবং যা ভঙ্গ করলে নৈতিক অপরাধ হয় । অন্যদিকে, রাষ্ট্রের আইনের দ্বারা স্বীকৃত অধিকারই হলো আইনগত অধিকার যার ভিত্তি হলো দেশের কোন আইন এবং যা ভঙ্গ করলে আইনগত অপরাধ হয়। পূর্বেই বলা হয়েছে যে, অধিকার সমাজে মিথষ্ক্রিয়ায় ফলে আপনাআপনি জন্ম নেয় এবং নৈতিক অধিকার হিসেবে অবস্থান করে যতক্ষণ না পর্যন্ত দেশের কোন আইন উহাকে স্বীকৃতি দেয়।


 যখনই কোন আইন উহাকে স্বীকৃতি দেয় তখনই উক্ত অধিকার আইনগত অধিকারে রূপ নেয়। সুতরাং এক অর্থে সকল আইনগত অধিকারই নৈতিক অধিকার এবং আইনগত অধিকার এবং নৈতিক অধিকারের মাঝে পার্থক্য মাত্রাগত বস্তুগত নয় ।


আইন ও নৈতিকতা (Law and Morality):


আইন এবং নৈতিকতা-এই উভয় ধারণাই সমাজে ব্যক্তির ব্যবহারিক আচরণকে নির্দেশ করে। বিধি হলো সমাজে মানুষ কর্তৃক ব্যবহৃত বিশেষ আচরণ । বিধি দু'ধরনের হতে পারে: (১) আইনগত বিধি (অন্য কথায় 'আইন'); এবং (২) নৈতিক বিধি (অন্য কথায় নৈতিকতা')। আইন হলো ঐ সকল বিধির সমষ্টি যা সমাজে মেনে চলা ব্যক্তির জন্য বাধ্যতামূলক এবং যা ভঙ্গ করলে নির্ধারিত শাস্তির বিধান রয়েছে । 

অন্যদিকে, নৈতিকতা হলো ঐ সকল বিধিবিধান যা পালন না করলে বা ভঙ্গ করলে শাস্তির কোন বিধান নেই। নৈতিকতা সাধারণত ধর্মীয় চিন্তা চেতনার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠে এবং ইহা ভঙ্গ করলে নৈতিক অপরাধ বলে গণ্য হয় যার সাথে আইনগত অপরাধ এবং অপরাধের জন্য শাস্তির কোন সম্পর্ক নেই।

 উদাহরণস্বরূপ বৃটেনে মানুষ হত্যা করলে উহা অপরাধ এবং উহার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান আছে। অন্যদিকে ব্যভিচারী (adultery) কোন আইনগত অপরাধ নয়, যদিও সামাজিকভাবে ঘৃণিত। তেমনিভাবে বাংলাদেশে মিথ্যা কথা বলা সরাসরি কোন অপরাধ নয় যদিও নৈতিকতা বিরোধী; অবিবাহিত কোন সাবালক মহিলার সাথে সম্মতিক্রমে সহবাস করা কোন অপরাধ নয় যদিও নৈতিকতা বিরোধী। 


 Principal category of law




উপরোক্ত পাঁচটি উপাদান একটি আইন ব্যবস্থার জন্য একান্ত অপরিহার্য। উক্ত উপাদানগুলোর আলোকে বলা যায় যে, বাংলাদেশের আইন ব্যবস্থায় প্রথমোক্ত তিন প্রকারের উপাদান বাংলাদেশের ফৌজদারী ও দেওয়ানী আইনে বিদ্যমান। প্রথমটি ফৌজদারী আইনে এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় উপাদানগুলো দেওয়ানী আইনে বিদ্যমান । চতুর্থ উপাদানও বাংলাদেশে বিদ্যমান । কারণ, দেওয়ানী এবং ফৌজদারী উভয় ধরনের আদালত বাংলাদেশে বিদ্যমান। বাংলাদেশের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা পার্লামেন্ট পঞ্চম উপাদানের পরিপূরক ।


একটি দেশের আইন ব্যবস্থার প্রধান উদ্দেশ্য হলো ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। এই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা তথা পুরো বিচার ব্যবস্থার তিনটি দিক থাকে । প্রথম দিকটি হলো প্রতিষ্ঠানিক যা নিম্নলিখিত উপাদানগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করেঃ দেওয়ানী, ফৌজদারী এবং বিশেষ আদালতসমূহ; জুডিসিয়ারী অর্থাৎ, বিচারকবৃন্দ, আইন পেশা, আইনজীবী, আইন কর্মকর্তা, এ্যাটর্নী জেনারেল, পাবলিক প্রসিকিউটর, পাবলিক প্লিডার, কোর্টের রেজিস্ট্রার, কারা কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশ । 

ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য আইন ব্যবস্থার দ্বিতীয় দিকটি হলো পদ্ধতিগত (procedural aspect)। এই পদ্ধতিগত দিক নিম্নলিখিত বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করেঃ বিচার বিভাগীয় এবং আধা-বিচার বিভাগীয় পদ্ধতি যার মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হয়: অনুসন্ধান, তদত্ত, মামলা দায়েরের পদ্ধতি, সাক্ষ্য নেয়া, জেরা করা, আপীল পদ্ধতি । আইন ব্যবস্থার তৃতীয় দিকটি ইহার ধারণাগত (conceptual aspect) বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে। যেমন- আইন ব্যবস্থার ঐতিহাসিক বিকাশ, নঞ্জীরের নীতিসমূহ, আইন প্রণয়নের নীতিসমূহ, statutory interpretation, আইন সংস্কার, আইন সহায়তা ইত্যাদি।

আইনের বিভিন্ন ধরন বা প্রকারভেদ
Categories of Law

একটি দেশের বিদ্যমান সকল আইনকে প্রধানতঃ দু'টি ভাগে ভাগ করা যায়। যথাঃ জাতীয় আইন (National or domestic Law) এবং আন্তর্জাতিক আইন (International Law)। এই দুই প্রকারের আইনকে আবার আরো দু ভাগে ভাগ করা যায়  

1 নং আইন হচ্ছে জাতীয় আইন ইংলিশ public law এবং 
2 নং আইন  হচ্ছে ব্যক্তিগত যাকে আমরা বলি private law 

জাতীয় আইন (Public Law):

 Public Law রাষ্ট্রের গঠন ও কার্যাবলী নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ করে এবং এটি রাষ্ট্রের সাথে জনগণের সম্পর্ক নির্ধারণ করে। কোন আইন Public Law কি না তা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট পক্ষগণের ধরনের উপর। যদি সংশ্লিষ্ট পক্ষের একটি হয় রাষ্ট্র তবে বিষয়টি অবশ্যই Public Law-এর অন্তর্ভুক্ত হবে। তাই সংবিধানিক আইন, ফৌজদারী আইন, রাজার আইন, Administrative Law ইত্যাদি Public Law এর অন্তর্ভুক্ত। 

ব্যক্তিগত আইন (Private Law ) : 

Private Law হল আইনের এমন একটি শাখা যা নাগরিকদের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ করে। Private Law-তে পক্ষসমূহ হলো Private individuals । এখানে রাষ্ট্র arbitrator-এর ভূমিকা পালন করে এবং বিভিন্ন Judicial organ বা বিচারকারী সংস্থার মাধ্যমে পক্ষগণের মধ্যে বিরাজমান বিবাদ মীমাংসা করে। চুক্তি আইন, টর্ট আইন, সম্পত্তি হস্তান্তর আইন ইত্যাদি Private Law এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

তত্ত্বগত আইন এবং পদ্ধতিগত আইন (Substantive Law and Procedural Law):


Public Law 4 Private Law Substantive  Procedural Law হতে পারে । যখন একটি আইন কোন অধিকার, দাবী বা অবস্থানকে সংজ্ঞায়িত করে তখন তাকে Substantive Law বা তত্ত্বগত আইন বলে। যেমন, দণ্ডবিধি আইন, চুক্তি আইন, সম্পত্তি আইন ইত্যাদি। অপরদিকে, যখন কোন আইন কোন প্রতিকার নির্ধারণ করে কিংবা কোন মামলার কার্যপ্রণালী ব্যাখ্যা করে তখন তাকে পদ্ধতিগত আইন বলে। যেমনঃ দেওয়ানী কার্যবিধি, ফৌজদারী কার্যবিধি ইত্যাদি । তত্ত্বগত আইন ও পদ্ধতিগত আইনের মধ্যকার পার্থক্য সর্বদা সহজ সুস্পষ্ট নয়। একটি আইন একই সাথে তত্ত্বগত ও পদ্ধতিগত আইন হতে পারে।


বাংলাদেশে পাশকৃত আইন

বাংলাদেশে এ পর্যন্ত প্রায় ১২০০টি আইন প্রচলিত রয়েছে যার মধ্যে ৩৬৬টি আইন স্বাধীনতার পূর্বে এবং বাকী আইনসমূহ স্বাধীনতার পরবর্তীতে পাশ করা হয়েছে। এই পরিসংখ্যানটি করা হয়েছে বাংলাদেশ কোডের তথ্যের ভিত্তিতে যেখানে ২০০৬ সাল পর্যন্ত পাশকৃত ৯৫৭টি আইন এবং ২০০৭ সাল পর্যন্ত পাশকৃত ৪২টি আইন রয়েছে এবং ২০০৮, ২০০৯, ২০১০, ২০১১, ২০১২, ২০১৩, ২০১৪, ২০১৫ এবং ২০১৬ সালে একাধিক আইন পাশ করা হয়েছে। এর কিছু আইন প্রায়ই সংশোধন করা হয় এবং নিয়মিত সংস্কার ও সংকলনে দীর্ঘদিন যাবত সমস্যা হয়ে আসছে।

 সাধারণতঃ কোন আইন একবার পরিবর্তিত হলে একে জনগণ ও সরকারের ব্যবহারের উপযোগী করার জন্য নতুন করে সংশোধন করে প্রকাশ করা হয়। আমাদের দেশে বলতে গেলে এটা প্রচলিত নেই। কোন আইন একবার সংশোধন করা হলে, সরকার গেজেট নোটিফিকেশন প্রকাশ করে যা শুধু সংশোধনী চিহ্নিত করে। অথচ জনগণ, বার, বেঞ্চ, সরকারের বিভিন্ন বিভাগ এবং কৌতূহলী ব্যক্তিবর্গের জন্য আইনের সংশোধন পরবর্তী অনুলিপির কপি অত্যন্ত জরুরী। যদিও সরকারের দায়িত্ব মুক্তিযুক্ত সময়ের মধ্যে আইন প্রকাশ করা কিন্তু আমাদের দেশে সংস্কারকৃত আইন প্রকাশের জন্য যথার্থ প্রকাশনা ব্যবস্থা নেই।


কিভাবে একটি আইন খুঁজতে হয়: 

উপরে উল্লিখিত আইনের শ্রেণীবিভাগ ছাড়াও আইনকে বিধিবন্ধ আইন এবং নজির এই দু'ভাগে বিভক্ত করা হয়। বিধিবদ্ধ আইন সংসদ এবং অন্যান্য বিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষ দ্বারা পাশ করা হয়; অপরদিকে আদালতের এখতিয়ারে নজির সংকলন করা হয়। অত্র ওয়েবসাইটে একাদশ এবং দ্বাদশ অধ্যায়ে বিধিবদ্ধ আইন এবং নজির উভয় আইন সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। ছাত্র এবং প্রশিক্ষণরত এ্যাডভোকেট উভয়ের জানা উচিত কিভাবে তারা আইন খুঁজে পাবেন। বিধিবন্ধ আইন সরকার কর্তৃক প্রকাশিত গেজেটে পাওয়া যায় এবং সকল রিপোর্টেড নজির আইন প্রতিবেদনে (Law Reports ) পাওয়া যায়। 

বিধিবদ্ধ আইন খোঁজার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো প্রথমে citation অথবা আইন পাশ হওয়ার সাল জেনে নেয়া এবং পরে তা ২০০৭ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশ কোড এ খুঁজতে হবে। যদি আপনার সাল বা citation জানা না থাকে তাহলে আপনাকে বাংলাদেশ কোডে সংখ্যানুক্রমিকভাবে খুঁজতে হবে । নজির খোঁজার একমাত্র উপায় হলো সংশ্লিষ্ট আইন প্রতিবেদনে (Law Reports) সূচীপত্র অথবা reference এর মাধ্যমে খুঁজে বের করা।

আইন খোঁজার উপায় গুলো ছকের মাধ্যমে নিচে দেখানো হলো:




আইন ও ন্যায়বিচার (Law and Justice):

"ন্যায়বিচার" ধারণাটি 'আইন' ধারণাটির চেয়ে অনেক ব্যাপক। আইনকে অনেক সময় ন্যায়বিচারের মাধ্যম হিসেবে ধরা হয়। আইন থাকলেই উক্ত আইন যে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে তা বলা যায় না। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে দেখুন লেখকের অন্য একটি বই Law and Legal English



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)